৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি আমদানির বাড়তি চাপ মোকাবিলায় জাপানের কাছে ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দুই কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এ অর্থ চাওয়া হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানের কাছে ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দুই কিস্তিতে মোট ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চাওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
- আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেখানে এই বাজেট সহায়তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
- মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া বাড়তি চাপ সামাল দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাজেট সহায়তা হিসেবে জাপানের কাছে ১০০ কোটি ডলার চাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে দুই কিস্তিতে এ অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আসন্ন ২৬ অক্টোবর চার দিনের জাপান সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে এই বাজেট সহায়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ও আগামী অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার করে বাজেট সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩১১ কোটি ডলার এবং তার আগের অর্থবছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা এবং এআইআইবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে এসব ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) কাছ থেকে ১০ কোটি ডলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরগুলোতে জাইকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাজেট সহায়তা পাওয়া গেলেও বর্তমানে নতুন কোনো ঋণ নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে দৃশ্যমান আলোচনা নেই। তবে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় বাড়তে থাকায় এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস হিসেবে জাপানের এই সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকেও কয়েকটি বাজেট সহায়তা ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক আলোচনা চলছে, যা আগামী মার্চের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে সরকারকে কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করতে হয়েছে।
অর্থনৈতিক এই সংকট উত্তরণে সরকারের বাজেট ব্যয় যথাসম্ভব কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সামগ্রিক আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে বিনিময় হারকে নমনীয় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি মূল্যের ব্যবধান কমিয়ে আনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই করা সম্ভব বলে তিনি মত দিয়েছেন। জাপানের কাছ থেকে প্রত্যাশিত এই ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-pratidin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।