মুকেশ আম্বানির জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের ৩০,২১৩ কোটি রুপির আইপিও (IPO) শেয়ার বাজারে আসার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে শতভাগ সাবস্ক্রাইবড হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে এটি দ্রুততম সাবস্ক্রিপশনের রেকর্ড। আকাশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন এই সংস্থাটি প্রথম দিনেই বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে, যা দেশের টেলিকম ও ডিজিটাল খাতের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জিয়ো প্ল্যাটফর্মসের ৩০,২১৩ কোটি রুপির আইপিও উইন্ডো খোলার মাত্র ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বা ১০০ মিনিটের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ শেয়ারের জন্য আবেদন করেছেন।
- ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো বড় মাপের আইপিও যা খোলার প্রথম দিনেই দ্রুততম সময়ে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন রেকর্ড ভেঙেছে।
- আকাশ আম্বানির ভাষ্যমতে, জিয়ো কেবল একটি টেলিকম সংস্থা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের শেয়ার বাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন জিয়ো প্ল্যাটফর্মস। ৩০,২১৩ কোটি রুপির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) সাবস্ক্রিপশনের জন্য উন্মুক্ত করার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে তা ‘ফুললি সাবস্ক্রাইবড’ হয়ে যায়। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিনিয়োগকারীরা জিয়োর শেয়ার কেনার জন্য প্রয়োজনীয় সব আবেদন জমা দিয়েছেন। ভারতের করপোরেট ইতিহাসে এর আগে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের আইপিও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন উন্মাদনা দেখা যায়নি।
এই আইপিও-র মাধ্যমে জিয়ো প্ল্যাটফর্মস পাঁচটি প্রধান রেকর্ড চূর্ণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুততম সময়ে সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হওয়া এবং প্রথম দিনেই খুচরা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবেদন পাওয়া। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জিয়োর শক্তিশালী ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অগাধ আস্থার কারণেই এই অভাবনীয় সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানি এই সাফল্যকে জিয়োর ডিজিটাল রূপান্তরের স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জিয়ো এখন আর সাধারণ কোনো টেলিকম অপারেটর নয়, বরং এটি একটি অত্যাধুনিক ডেটা ও প্রযুক্তি সংস্থা। আইপিও-র এই বিপুল সাড়া প্রমাণ করে যে, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
জিয়োর এই আইপিও সাফল্য ভারতের সামগ্রিক পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি কেবল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ঋণ কমাতেই সাহায্য করবে না, বরং দেশের অন্যান্য প্রযুক্তি ও টেলিকম স্টার্টআপগুলোর জন্য শেয়ার বাজারে প্রবেশের নতুন পথ প্রশস্ত করবে। আগামী কয়েক দিনে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।