কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে ১১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সর্ব-শেয়ার চুক্তিতে অপটিক্যাল যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুমেনটামকে অধিগ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা মারভেল টেকনোলজি। সোমবার যৌথভাবে ঘোষিত এই চুক্তির আওতায় লুমেনটামের শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে মারভেলের ৪.৫টি শেয়ার পাবেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে এটি সম্পন্ন হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- লুমেনটাম অধিগ্রহণের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ কোটি বা ১১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২৮ অক্টোবরের সমাপনী বাজারদরের চেয়ে ২৩.৯ শতাংশ বেশি প্রিমিয়াম বা ১,১৩২ ডলার প্রতি শেয়ার।
- চুক্তির শর্তানুসারে, লুমেনটামের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে মারভেল টেকনোলজির ৪.৫টি শেয়ার পাবেন এবং একীভূত প্রতিষ্ঠানের ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের হাতে থাকবে।
- এই মেগা অধিগ্রহণের ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরিচালন ব্যয় বাবদ ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হবে এবং মারভেলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক ডাটা সেন্টারে নিজেদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে অপটিক্যাল যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুমেনটামকে কিনে নিচ্ছে মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারভেল টেকনোলজি। সোমবার প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে যৌথভাবে জানানো হয় যে, সম্পূর্ণ শেয়ারভিত্তিক এই বিশাল অধিগ্রহণ চুক্তির আওতায় লুমেনটামের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ কোটি বা ১১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত বিশ্বজুড়ে এআই ডাটা সেন্টারে হাজার হাজার প্রসেসরের মধ্যে অতিদ্রুত তথ্য বা ডেটা আদান-প্রদানের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় মারভেল এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মারভেল টেকনোলজি মূলত অত্যাধুনিক কাস্টম চিপ ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অন্যদিকে, লুমেনটাম বৈদ্যুতিক সংকেতকে দ্রুত আলোতে রূপান্তর এবং পুনরায় তা সংকেতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম বিশেষ লেজার ও অপটিক্যাল ট্রান্সসিভার তৈরিতে বিশেষ পারদর্শী। সম্ভাব্য এই চুক্তির ঘোষণা আসার আগে গত ২৮ অক্টোবরের শেয়ারবাজারের সমাপনী মূল্যের ওপর ভিত্তি করে লুমেনটামের প্রতি শেয়ারের দর ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩২ ডলার, যা ওই দিনের বাজারদরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি প্রিমিয়াম মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লুমেনটামের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের মালিকানাধীন প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে মারভেলের ৪ দশমিক ৫টি করে নতুন শেয়ার পাবেন। সফলভাবে একীভূত হওয়ার পর নতুন কোম্পানির প্রায় ৬৭ শতাংশ শেয়ার মারভেলের বর্তমান অংশীদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং অবশিষ্ট ৩৩ শতাংশ শেয়ার লুমেনটামের শেয়ারহোল্ডারদের অধিকারে যাবে। নবগঠিত এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মারভেলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ম্যাট মারফি। উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ইতিমধ্যে এই চুক্তিতে সর্বসম্মত অনুমোদন দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরিচালন ব্যয় বাবদ ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার প্রথম বছর থেকেই মারভেলের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি এবং বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৮ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করছে উভয় পক্ষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।