দেশে ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দুইশত তেইশ টাকা বাড়িয়ে দুই হাজার ষাট টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে চলতি মাসে এই নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত এই নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ক্রয়ে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রতিটিতে ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,০৬০ টাকা।
- জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
- জামায়াতে ইসলামী এক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে আবারও রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৬০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধির কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে দফায় দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সিলিন্ডারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে এখন প্রতি মাসের জ্বালানি খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে এলপিজির দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির দায় কোনোভাবেই সাধারণ জনগণের কাঁধে চাপানো যাবে না। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানান তারা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এলপিজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। গৃহস্থালি খরচের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পকারখানায় রান্নার ও উৎপাদনের খরচ বাড়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়বে পণ্যের বাজারে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় জ্বালানি খাতের ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।