সরকারি বা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে ১২টি বিশেষ সফটওয়্যার। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এগুলোর প্রকৃত ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে। বিশাল অঙ্কের এই অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে জনসেবায় এসব সফটওয়্যার কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছে এবং কেন অধিকাংশ সফটওয়্যার ঠিকমতো কাজে লাগানো যাচ্ছে না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ করে মোট ১২টি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল।
- তৈরি করা এই ১২টি সফটওয়্যারের সিংহভাগই কার্যক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যবহার বা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।
- প্রকল্পের বিশাল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল না মেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের অভাব প্রকাশ্যে এসেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে ১২টি বিশেষ সফটওয়্যার। কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির এই যুগে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে তৈরি করা এসব প্রযুক্তিগত সমাধান আদৌ জনগণের কতটুকু উপকারে আসছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এগুলোর একটি বড় অংশই বর্তমানে অলস পড়ে আছে কিংবা প্রত্যাশিত সেবা প্রদানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
ডিজিটাল রূপান্তর ও ই-গভর্ন্যান্সের নামে নেওয়া এসব প্রকল্পের পেছনে জনগণের করের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সফটওয়্যারগুলোর অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এগুলো ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রযুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও টেকসই পরিকল্পনা ছাড়াই কেবল বাজেট খরচের প্রবণতার কারণে এ ধরনের জাতীয় অপচয় ঘটছে। সফটওয়্যার উন্নয়নের পর এর সফল বাস্তবায়ন, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করার ফলে কোটি কোটি টাকার এই বিনিয়োগ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি প্রযুক্তি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অকার্যকর সফটওয়্যারগুলোর নেপথ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।