নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে ১৩ কোটি নাগরিকের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তুলে যৌথ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত সমাবেশে বাম নেতৃত্ব মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিলের দাবি জানান। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং প্রশাসনিক হয়রানির তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার জেরে দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে বামফ্রন্টের সমাবেশে অভিযোগ করা হয়।
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অজুহাতে রেশন বা ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধের মতো প্রশাসনিক হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছে বামেরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে দেশজুড়ে কোটি কোটি যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার হরণের গুরুতর অভিযোগ তুলে যৌথ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট ও সহযোগী দলগুলি। বৃহস্পতিবার এসপ্ল্যানেডের ওয়াই চ্যানেলে ছয়টি বামপন্থী দলের এক যৌথ সমাবেশ থেকে দাবি করা হয়, কমিশনের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের জেরে দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দেশের প্রতি ১১ জন নাগরিকের মধ্যে ১ জন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন বুথস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও তীব্র সুর চড়িয়েছেন বাম নেতৃত্ব।
সভার সূচনাতেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু অভিযোগ করেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন বদল করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনার পদে বসিয়েছে কেন্দ্র। বিমান বসুর সাফ হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন থামবে না, প্রয়োজনে তাঁকে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হবে। সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলা হয়। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, নতুন ভোটারদের জন্য ৬ নম্বর ফর্মে এমন অযৌক্তিক শর্ত চাপানো হয়েছিল যাতে নাম তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি অন্যান্য কমিশনারদের অন্ধকারে রেখেই সেই কাজ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও আদালতের হস্তক্ষেপে নাম ওঠার পর ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে একতরফাভাবে লক্ষ লক্ষ নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে শতাধিক বিরোধী সাংসদকে সংসদ থেকে সাসপেন্ড করে এমন আইন পাস করানো হয়েছে, যাতে কমিশনের শীর্ষকর্তারা কোনো আইনি জবাবদিহির আওতায় না আসেন। অনুপ্রবেশের ধুয়ো তুলে বিভাজনের রাজনীতি চালানো হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় বাংলাভাষী খেটে খাওয়া মানুষদের বেআইনি অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পার করে দেওয়ার মতো অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে তোপ দাগা হয়।
সমাবেশ থেকে বাম দলগুলির পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয় যে, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম অবিলম্বে তালিকায় ফেরাতে হবে এবং ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে রেশন বা ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধের মতো হয়রানি দ্রুত রুখতে হবে। দেশব্যাপী এই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।