৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দীর্ঘ ১৪ বছরের ভোগান্তি এবং প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও বিতর্কিত ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর পরিবর্তে সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রকল্পটি বাতিলের এই সিদ্ধান্তে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুল আলোচিত ঢাকা-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশৌত অবকাঠামো কাজ সমাপ্ত হওয়ার পরও তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
- প্রকল্পটি বাতিলের পর এর পরিবর্তে রাজধানীর উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়কপথটি ছয় লেনের আধুনিক মহাসড়কে রূপান্তর করার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
- দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা এই প্রকল্পের স্থবিরতা, সীমাহীন জনদুর্ভোগ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)সহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বহুল আলোচিত ও দীর্ঘমেগা ভোগান্তির প্রতীক ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার পর এবং প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। প্রকল্পটি যখন প্রায় ৯৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল এবং চালুর দাবি উঠছিল, ঠিক তখনই সরকারের পক্ষ থেকে এই বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা আসে।
২০০৮ সাল থেকে পরিকল্পনা শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যকার যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দ্রুতগামী করা। কিন্তু দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি, নির্মাণকাজে চরম অবহেলা, তীব্র যানজট এবং সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের কারণে এটি দেশের অন্যতম ব্যর্থ অবকাঠামোগত প্রকল্পে পরিণত হয়। বারবার ডেডলাইন পরিবর্তন করেও এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প বাতিলের পর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পের প্রায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার পর তা বাতিল করা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের যুক্তি, বিআরটি ব্যবস্থার পরিবর্তে ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে যানজট নিরসনে তা আরও বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গাজীপুর ও রাজধানীর উত্তরার মধ্যকার যাতায়াত ব্যবস্থার রূপরেখায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ছয় লেনের নতুন সড়ক বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় অর্থনীতি, শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন এবং দৈনিক লাখ লাখ যাত্রীর যাতায়াতে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিগত ১৪ বছরের অপচয় এবং জনদুর্ভোগের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।