৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ বছরে বিশ্বব্যাপী কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন ১২০ কোটি তরুণ। যার মধ্যে চাকরি মিলবে মাত্র ৪০ কোটি তরুণের। অর্থাৎ প্রতি তিনজন তরুণের মধ্যে মাত্র একজন চাকরি পাবেন। এই বিশাল কর্মসংস্থান সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে কর্মবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।
- চাকরি পাওয়ার এই বৈশ্বিক হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি তিনজন তরুণের মধ্যে মাত্র একজন কাজের সুযোগ পাবেন এবং প্রায় ৮০ কোটি তরুণ বেকার থাকতে পারেন।
- বাংলাদেশেও উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় ২৯ শতাংশ বর্তমানে বেকার রয়েছেন এবং অর্ধেকের বেশি তরুণ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কাজ পাচ্ছেন না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আগামী দেড় দশকে বৈশ্বিক কর্মবাজার এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, আগামী ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানের খোঁজে বাজারে আসবেন। অথচ বর্তমান অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ পেতে পারেন মাত্র ৪০ কোটি তরুণ। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ৮০ কোটি তরুণ কর্মহীন বা বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বিশাল কর্মসংস্থান সংকটের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। বাংলাদেশেও উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ বেকারত্ব ও আন্ডার-এমপ্লয়মেন্ট বা যোগ্যতার চেয়ে কম মানের কাজের শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের উচ্চশিক্ষিত যুব সমাজের প্রায় ২৯ শতাংশই বেকার। এছাড়া যারা চাকরি পাচ্ছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে তাদের বর্তমান কাজের কোনো মিল নেই, যা সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্তরায়।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প বিপ্লবের এই যুগে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক কর্মবাজারের চাহিদার মধ্যে বিরাট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে অনেক ঐতিহ্যবাহী কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। এর ফলে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়ালেই চলবে না, বরং কর্মমুখী কারিগরি শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রসার ঘটিয়ে যুবসমাজকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। নতুন নতুন শিল্প স্থাপন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে বিপুল এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bdnews24.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।