১৫৮৫ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেন?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ১৫৮৫ টাকার ১২ কেজির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ অপারেটরদের দাবি অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস আমদানি ও মজুত থাকার পরও খুচরা পর্যায়ে চরম সংকট বিরাজ করছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১৫৮৫ টাকা হলেও বাজারে তা ২৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
- কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেশের সকল জেলা ডিসিকে নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
- অগাস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে বলে অপারেটররা জানালেও খুচরা বাজারে তীব্র সংকট রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসের শুরুতে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা ২১৫০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭শ টাকা পরিশোধ করেও গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।
বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে মূলত খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের কারসাজি কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী দিনের বেলায় দোকানের শাটার অর্ধেক নামিয়ে বা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে গোপনে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। আফতাবনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে গ্যাস নেই অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা দাবি করেছেন যে দেশে গ্যাসের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগাস্ট মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক জানিয়েছেন, আমদানিকারকরা ডিলারদের কাছে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছেন, ফলে খুচরা বাজারের অনিয়মের দায় তাদের নয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে আগামী দিনে আমদানি আদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন, যা দ্রুত দমন করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।