৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের ২০২১ সালের ১১ মার্চের একটি ডাক্তারি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে জানান, মমতার পায়ে কোনো ভাঙার চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। সিআইডি বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২১ সালের ১১ মার্চ প্রকাশিত বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের রেডিয়ো ডায়াগনোসিস বিভাগের ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনো ভাঙার প্রমাণ ছিল না।
- নন্দীগ্রামের তৎকালীন প্রচারপর্বে পা ভাঙার নাটক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা নন্দীগ্রামবাসীকে অপমান করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- চিকিৎসকদের ওই রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত পরিচালনা করছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন নন্দীগ্রামে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সে সময় ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওই ঘটনা সাজানো হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর পেশ করা একটি সরকারি ডাক্তারি রিপোর্ট অনুযায়ী, সেদিনের সেই দাবি এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে কোনো মিল ছিল না, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আলোচ্য ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের মার্চ মাসে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারের সময়। ঘটনার পরপরই মমতাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় দাবি করা হয়েছিল যে ভিড়ের ধাক্কায় তাঁর পায়ে মারাত্মক চোট লেগেছে এবং হাড় ভেঙে গেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধীরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন এবং এটিকে রাজনৈতিক স্টান্ট বলে অভিহিত করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে পুরোনো চিকিৎসাগত নথিগুলো সামনে চলে আসে।
শনিবার শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের সামনে বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিয়ো ডায়াগনোসিসের একটি রিপোর্ট প্রদর্শন করেন। ওই রিপোর্টের তারিখ উল্লেখ করা হয় ২০২১ সালের ১১ মার্চ। তিনি দাবি করেন, ওই চিকিৎসাগত নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনো ফ্র্যাকচার বা ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
এই রিপোর্টের সত্যতা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী ময়দানে সহানুভূতি অর্জনের জন্য এ ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়েছিল কি না, তা সিআইডির তদন্তে স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনাটি বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে, যা বিরোধী দলগুলোকে শাসকশিবিরের বিরুদ্ধে আরও জোরালো আক্রমণ শাণানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Ei Samay-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।