২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে দেশের শতভাগ নাগরিকের ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ‘ভিএনইআইডি’ (VNeID) অ্যাপ্লিকেশনে একীভূত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্ম অধিবেশনে স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তর, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি দূরীকরণ এবং জনগণের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য ত্রান কাম তু-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে শতভাগ জনগণের ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড VNeID অ্যাপে যুক্ত করতে হবে।
- ২০২৬ সাল থেকে দেশের সকল নাগরিক বছরে অন্তত একবার বিনামূল্যে পর্যায়ক্রমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং সুবিধা পাবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ল্যাব ও ইমেজিং পরীক্ষার আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
- ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি দূর করতে ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের মধ্যে অর্থনৈতিক ও গত মানদণ্ড এবং মূল্য কাঠামোসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সার্কুলার জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে দেশের শতভাগ জনগণের ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড ‘ভিএনইআইডি’ (VNeID) অ্যাপ্লিকেশনে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২২শে অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ কর্ম অধিবেশনে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো, হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য যাওয়ার সময় নাগরিকদের যেন কেবল তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল আইডি সঙ্গে রাখলেই চলে, যা কাগজের নথিপত্র এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
অধিবেশনে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ওষুধ, টিকা ও চিকিৎসা সামগ্রীর চলমান ঘাটতি চূড়ান্তভাবে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এজন্য ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের মধ্যে চিকিৎসা সেবার অর্থনৈতিক ও গত মানদণ্ড, দরপত্র প্যাকেজের শ্রেণিবিভাগ এবং মূল্য কাঠামোসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সার্কুলার জারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালগুলোর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা এবং নিম্ন-স্তরের হাসপাতালগুলোতে পুনরাবৃত্ত ব্যয়ের স্বায়ত্তশাসন নীতির ত্রুটি সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়।
সরকারের ৭২ নম্বর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে দেশের জনগণ বছরে অন্তত একবার বিনামূল্যে পর্যায়ক্রমিক চিকিৎসা পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং সুবিধা পাবেন। এই নীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে সর্বোচ্চ আওতাভুক্তির হার অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চিকিৎসা খাতের কর্মীদের ধরে রাখতে এবং তাদের কাজের আগ্রহ বাড়াতে আকর্ষণীয় বেতন ও বিশেষ ভাতা নীতিমালার প্রবিধান চূড়ান্ত করে ২০২৬ সাল থেকে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে চিকিৎসাসেবার সার্বিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানদণ্ড পূরণকারী সকল হাসপাতালে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল এবং ডায়াগনস্টিক ইমেজিংয়ের আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ন্যায্য পেশাগত কারণ ছাড়াই রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বাধ্য করার মতো অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।