২৮ বছর ধরে বিশ্বভ্রমণ শেষে যুক্তরাজ্যের হালের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বাশবি। ১৯৯৮ সালে চিলি থেকে পদযাত্রা শুরু করে তিনি প্রায় ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়েছেন। মধ্য আমেরিকার ঘন জঙ্গল, আলাস্কা-রাশিয়ার বরফ অঞ্চল এবং ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পেরিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই ঐতিহাসিক যাত্রার সময় তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯৯৮ সালে চিলি থেকে সামান্য কিছু ডলার, একটি তাঁবু ও প্লাস্টিকের ক্যামেরা নিয়ে ২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শুরু করেছিলেন কার্ল বাশবি।
- দীর্ঘ এই অভিযাত্রায় তিনি মধ্য আমেরিকার জঙ্গল, আলাস্কা থেকে রাশিয়া এবং কাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে সর্বমোট ৩১ হাজার মাইল পথ পায়ে হেঁটে ও সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন।
- যাত্রার শেষপ্রান্তে এসে গত মাসে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হন এবং সম্প্রতি হালের চত্বরে শত শত মানুষের সংবর্ধনা নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২৮ বছর ধরে একটানা হেঁটে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক বাধা পেরিয়ে অবশেষে নিজের শৈশবের বাড়িতে ফিরেছেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বাশবি। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক এই প্যারাট্রুপার ১৯৯৮ সালে চিলি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। মানচিত্রে একটি সরল রেখা টেনে তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জেদ থেকেই তিনি এই দীর্ঘ ও বিপদসংকুল পথ বেছে নেন। যাত্রাপথে তাকে মধ্য আমেরিকার দুর্গম ও ঘন জঙ্গল কেটে পথ তৈরি করতে হয়েছে, পাড়ি দিতে হয়েছে আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যকার হাড়কাঁপানো বরফাবৃত অঞ্চল।
লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব কি না—বাবার এমন একটি অদ্ভুত ভাবনা থেকেই মূলত এই বিশ্বজয়ের নেশা চেপেছিল কার্ল বাশবির মাথায়। ২৯ বছর বয়সে শুরু করা এই অভিযাত্রায় একে একে তিনি আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, মঙ্গোলিয়া, চীন ও কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ হয়ে অবশেষে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। যাত্রার একদম শেষ ধাপে গত মাসে তিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হন, যা তার এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে আরও বেশি ঐতিহাসিক করে তুলেছে।
সোমবার সকালে ইংল্যান্ডের হাল শহরের চত্বরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন কয়েকশ সাধারণ মানুষ। এ সময় আবেগাপ্লুত কার্ল বাশবি জানান, ২৮ বছর পর মানুষের এমন ভালোবাসা পাওয়ার পর তার আর চাওয়ার কিছু নেই। হালের বাড়িতে তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার মা, ৩৬ বছর বয়সি ছেলে এবং ১২ বছর বয়সি এক নাতনি। সামান্য কিছু জিনিসপত্র ও একটি অতিরিক্ত টায়ারযুক্ত ট্রলি টেনে তিনি যখন বাড়ির দরজায় পৌঁছান, তখন বহু বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
এদিকে কার্ল বাশবির এই অবিশ্বাস্য ও দুঃসাহসিক অভিযাত্রা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র তৈরির কাজ চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সফর শুরু করারও পরিকল্পনা রয়েছে এই ৫৭ বছর বয়সি বিশ্বভ্রমী অভিযাত্রীর।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।