স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর কোনো অধিকার নেই কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে নন, তা নির্ধারণ করার—এমন মন্তব্য করে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক। সম্প্রতি মানিক পশারী নামক এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধাদান এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির তৎপরতা নিয়ে নাগরিক সমাজ এই জোরালো প্রতিবাদ জানায়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দেশের বিশিষ্ট ২৮ নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার ও সনদ নির্ধারণের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
- সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে স্থানীয়ভাবে জামায়াত-সমর্থিত চক্রের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
- নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে মানিক পশারীর দাফনে বাধাদানকারী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জোর দাবি জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কে রাজাকার আর কে মুক্তিযোদ্ধা, তা নির্ধারণ করার কোনো অধিকার জামায়াতে ইসলামীর নেই—এমন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সম্প্রতি মানিক পশারী নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্য ও দাফনে বাধা দেওয়ার জঘন্য ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতি দেওয়া হয়। বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতাকারী একটি দল যখন মুক্তিযোদ্ধাদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সার্টিফিকেট দিতে যায়, তা জাতির সঙ্গে চরম উপহাসের শামিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত কিছুদিন আগে, যখন মানিক পশারী মারা যাওয়ার পর তাঁর দাফন সম্পন্ন করতে স্থানীয় একটি মহল বাধা দেয়। শুধু তাই নয়, চরম হুমকির মুখে পড়ে ওই মুক্তিযোদ্ধার বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের পরিবারের ওপর এমন হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় সচেতন মহলে। মানিক পশারীর দাফনে বাধাদানকারী দুষ্কৃতকারীরা সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভাজন সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকেরা উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি কুচক্রী মহল নতুন করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। মানিক পশারী হত্যাকাণ্ডের মতো দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির এমন ঔদ্ধত্য রুখে দিতে না পারলে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা চরম বিপন্ন হতে পারে। তাই সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এসব ঘটনার নেপথ্য নায়কদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, যাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারকে আর এমন অবমাননার শিকার হতে না হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।