বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় লগি-বৈঠার তাণ্ডবে মানুষ হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছিল।
- চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে অতীতের সব রাজনৈতিক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, সেদিন রাজধানীর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে লগি-বৈঠা দিয়ে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা এবং মরদেহের ওপর পৈশাচিক উল্লাসের যে দৃশ্য জাতি প্রত্যক্ষ করেছে, তা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না।
সেদিনের এই ভয়াবহ সংঘাতের মূলে ছিল মূলত তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ। বিচারপতি কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ঘটনার পূর্বে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি লগি-বৈঠা হাতে ঢাকায় প্রবেশের যে প্রকাশ্য আহ্বান ছিল, তা ছিল পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। সেই উসকানিমূলক আহ্বানের ধারাবাহিকতায় রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছে, তারেক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হবে যখন অতীতের সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।