৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার মাঠে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ আট মিনিটে তিন গোল করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ম্যাচে রোমার মাঠে শেষ আট মিনিটে তিন গোল শোধ করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ, যার শেষ গোলটি আসে ৯০তম মিনিটে আন্তোনিও রুডিগারের কাছ থেকে।
- চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ১০০তম ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৭২তম গোল করে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা পাঁচে জায়গা করে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
- প্রথমার্ধে মার্থেন ডি রুন রোমাকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ডনিয়েল মালেনের দুই গোলে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে স্তাদিও অলিম্পিকোতে রোমার মুখোমুখি হয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। রোমা কোচ হোসে মরিনহোর শিষ্যদের বিপক্ষে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তন দেখিয়ে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা রোমা ২০ মিনিটে মার্থেন ডি রুনের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া চমৎকার শটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১০০তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ এবং টুর্নামেন্টে তার ৭২তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি রিয়ালের কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে পেছনে ফেলে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষ পাঁচে প্রবেশ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। স্বাগতিক রোমার ডাচ ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দলের। তবে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের স্বভাবসুলভ লড়াকু মানসিকতা বজায় রেখে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্প্যানিশ ক্লাবটি। ৮২তম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এর ঠিক দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচ ৩-৩ সমতায় ফেরান তরুণ ব্রাজিলিয়ান তারকা এন্ড্রিক।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ ৯০তম মিনিটে স্টেডিয়াম অলিম্পিকোকে স্তব্ধ করে জয়সূচক গোলটি করেন রিয়ালের জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। মার্কারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে তিনি রিয়ালের ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই হারের ফলে ঘরের মাঠে দুই বছর আড়াই বছর পর হোসে মরিনহোর কোচিংয়ে রোমা দারুণ লড়াই করলেও শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষে মরিনহো মন্তব্য করেন যে, একই ম্যাচে যেন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রূপ দেখা গেছে এবং ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও জয় ধরে রাখতে না পারাটা হতাশার।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্যায়ে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াল ছয়। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া রোমার ঝুলিতে রয়েছে মাত্র এক পয়েন্ট। ইউরোপীয় ফুটবলের এই রোমাঞ্চকর লড়াই প্রমাণ করল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখা অসম্ভব, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-pratidin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।