দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি সফরে ৩ বিলিয়ন ডলারের ইডিসিএফ ও অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠকে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু নির্মাণ, ২৬০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরে বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের (কেইএক্সআইএম) সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানির মতো অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
- কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে সম্ভাব্য ১ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- এলজি এআই রিসার্চ ও ফিউরিওসাএআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সরকারি সফরের দ্বিতীয় কর্মদিবসে দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (কেইএক্সআইএম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি) এবং শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, দেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে কেবল উন্নয়ন অর্থায়ন নয়, বরং বিনিয়োগ, শিল্প অংশীদারত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা হবে। বৈঠকে ইডিসিএফ সহযোগিতা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। কেইএক্সআইএম জানায় যে তারা বর্তমানে ইডিসিএফের অগ্রাধিকারগুলো পর্যালোচনা করছে এবং বাংলাদেশ অবশিষ্ট অর্থায়ন ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে।
বৈঠকগুলোতে ঐতিহ্যগত উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো এবং স্থিতিশীল সরবরাহব্যবস্থাকে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি ও জাহাজ নির্মাণ খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে দেশের অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়।
প্রতিনিধি দলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চ ও ফিউরিওসাএআইয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরি এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, নগর উন্নয়ন ও পিপিপি মডেলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। স্যামসাং কেবল ইপিসি ঠিকাদারি থেকে বেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ এবং কোরীয় সরবরাহব্যবস্থায় স্থানীয় সরবরাহকারীদের যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উভয় দেশের এই অর্থনৈতিক আলোচনা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কোরীয় সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আলোচনা হওয়া বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প ও লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপ দিতে উভয় দেশ ভবিষ্যতে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।