চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামের এক কৃষকের দুই হাত কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সরফভাটা মীরেরখীল এলাকার গহীন বন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চার দিন আগে তার কাছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেছিল বলে জানিয়েছে স্বজনরা। খেত পাহারা দেওয়ার সময় তাকে হত্যা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা মীরেরখীল সিঙ্গাপুর এলাকার রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী সীমান্তের গহীন বন থেকে মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামের এক কৃষকের দুই হাত কাটা মরদেহ উদ্ধার করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।
- নিহত নেজাম উদ্দিন পেশায় একজন কৃষক ও পশু পালনকারী ছিলেন। তার প্রতিবেশী নুরুল আলমের ভাষ্যমতে, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চার দিন আগে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল এবং চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, রাতে ক্ষেত পাহারা দেওয়ার সময় তাকে হত্যা করে দুই হাত কেটে ফেলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং পুলিশ সুপারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) নামের এক কৃষকের দুই হাত কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সরফভাটা মীরেরখীল সিঙ্গাপুর এলাকার রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী সীমান্তের গহীন বন থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা মীরেরখীল ১ নম্বর স্লুইসগেট এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং তিনি এলাকায় গরু-ছাগল পালন ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্য হাতির আক্রমণ থেকে নিজের আবাদ করা আমন ধান রক্ষায় মঙ্গলবার রাতে ক্ষেত পাহারা দিতে যান নেজাম উদ্দিন। রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং দুই হাত কেটে বিলের পাশে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকালে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের প্রতিবেশী ও স্বজন নুরুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার চার দিন আগে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র নেজামের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। কিন্তু তিনি সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। চাঁদা না দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্বজনদের জোরালো ধারণা।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্প ও ডিবি) এবং রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।