আফগানিস্তানের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী সাদিক বিশ্বাস করেন মহানবীর অনুসারী বাড়াতে হবে, এই তাগিদ থেকেই তিনি মোট ৫৮ সন্তানের জনক হয়েছেন। চার স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেওয়া এই বিশাল পরিবারের ভরণপোষণ ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তিনি এখন মারাত্মক দিশেহারা। সন্তানদের নাম ও মুখ পর্যন্ত মনে রাখতে তার তীব্র বেগ পেতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আফগানিস্তানের ৫৭ বছর বয়সী সাদিক তার জীবনে চারবার বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে তিনি মোট ৫৮ সন্তানের জনক।
- মহানবী (সা.)-এর উম্মত বা অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ থেকেই তিনি এত বড় পরিবার গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেন।
- চরম দারিদ্র্য এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাদিক তার বিশাল পরিবারের ভরণপোষণ করতে গিয়ে বর্তমানে মানসিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আফগানিস্তানের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী ৫৭ বছর বয়সী সাদিক সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে মোট চারবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এই চার স্ত্রীর গর্ভে তার মোট ৫৮ জন সন্তান জন্ম নিয়েছে। বিশাল এই পরিবারের প্রধান হিসেবে তার দৈনন্দিন জীবন চরম ব্যস্ততা এবং কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজস্ব বিশ্বাসের জায়গা থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত ও অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি এত বড় পরিবার গড়ে তোলার এই অভিনব ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান যুগে আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং লাগাতার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এত বড় পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের আকার এতই বিশাল যে, সাদিক নিজেই অনেক সময় তার সব সন্তানের নাম, বয়স কিংবা মুখ ঠিকমতো মনে রাখতে পারেন না। সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে তাকে প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার দাবি, সন্তানদের সঠিক শিক্ষা ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য তার নেই।
এই অস্বাভাবিক পরিবারের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, অন্যদিকে তীব্র দারিদ্র্যের মধ্যে এত সন্তান জন্ম দেওয়ায় সমাজবিজ্ঞানীরা দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।