দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো বহুজাতিক ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে তারা রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয়। ফখর জামানের সেঞ্চুরির সুবাদে ২০০২ সালের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের অনন্য নজির গড়ে পাকিস্তান। দুই দলের রান মিলিয়ে ম্যাচটিতে মোট ৬৫৬ রান ওঠে, যা ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় পায় পাকিস্তান, যা ২০০২ সালের পর ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
- ম্যাচে ফখর জামান দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন এবং ৩০০-এর বেশি রান তাড়ায় পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪টি সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের নামে করেন।
- ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের দীর্ঘ ৯ বছর পর এই প্রথম কোনো বহুজাতিক ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলল পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কোনো বহুজাতিক ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৩২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়েছিল পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ। তবে ফাইনালে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা ভারতের একটি রেকর্ডও স্পর্শ করে।
ম্যাচটিতে উভয় দলের ইনিংস মিলিয়ে মোট ৬৫৬ রান সংগৃহীত হয়, যা ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড। এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ওপেনার ফখর জামান। তিনি দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জয় বন্দরের দিকে নিয়ে যান। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তার এই শতকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। একই সঙ্গে ৩০০-এর বেশি রান তাড়ায় পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন এই বাঁহাতি ওপেনারের দখলে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জয় পাকিস্তানের ওয়ানডে দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর দীর্ঘ ৯ বছর কেটে গেছে পাকিস্তানের কোনো বড় ট্রফি জয়ের স্বাদ পেতে। দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া একাদশ এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা উল্লাসে মাতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।
এই ঐতিহাসিক জয় পাকিস্তানি ক্রিকেটের জন্য এক নতুন মোড় বা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আসন্ন আন্তর্জাতিক আসরগুলোর আগে এই সাফল্য দলের ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক শক্তির জোগান দেবে। একই সঙ্গে বড় লক্ষ্য তাড়ায় দলের মানসিক দৃঢ়তা ও জয়ের ক্ষুধা বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।