পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তলব করেছে। কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিগত ১৫ বছরের উন্নয়ন প্রকল্প ও আর্থিক অনিয়মের তদন্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সাজেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়েও মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সংসদীয় কমিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত সকল প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
- সাজেক ভ্যালিতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মোট ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে, যা এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পন্ন হওয়া সকল উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিগত ১৫ বছরে পার্বত্য অঞ্চলে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল সাজেক ভ্যালিতে ক্ষতিগ্রস্তদের বর্তমান পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসন ও তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে, বিগত সরকারের আমলে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করা হয়েছে। একইসাথে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান প্রকল্পগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগটি পার্বত্য অঞ্চলের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্নীতির তথ্য উন্মোচিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট হবে, যা ভবিষ্যতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।