সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনের উপস্থিতিতে পঞ্চমবারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে টাকা গণনা শুরু হয়েছে। এর আগে চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিল। মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রতি মাসে একবার এই গণনা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পঞ্চম দফায় দানবাক্স ও ডেগের তালা খোলা হয়।
- এর আগের চতুর্থ দফার গণনায় মাজার থেকে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিল।
- মাজার কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় সংগৃহীত অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন এবং ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে পঞ্চমবারের মতো শুরু হয়েছে টাকা গণনার কাজ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বশীল সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে এই গণনা শুরু হয়। এর আগে গত ২২ জুন, ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর মাজারের ডেগ ও দানবাক্সগুলো খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে চতুর্থ দফায় পরিচালিত গণনায় মাজারের তহবিল থেকে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রচলিত মুদ্রা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকারও এই বাক্সে জমা পড়েছিল। প্রাপ্ত এসব অর্থ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জেলা প্রশাসকের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।
টাকা গণনার সার্বিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সংগৃহীত অর্থের ঠিক ৩৫ শতাংশ মাজারের অবকাঠামোগত ও অন্যান্য উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য আবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের কাজে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রতিদিন গণনার কাজ সম্পন্ন করতে খুব শীঘ্রই একজন ফুলটাইম ব্যবস্থাপক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ করা হবে।
মাজারের দানবাক্স নিয়মিত খোলা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও ভক্তবৃন্দের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এর ফলে মাজারের আর্থিক অনুদান পরিচালনায় অনিয়মের সুযোগ যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি ঐতিহাসিক এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।