যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ঐতিহাসিক ধারা বজায় রাখতে আইনি লড়াইয়ের পর পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ডিভি লটারি কর্মসূচি। ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা ২০২৭ সালের অভিবাসীপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ডিভি লটারি কর্মসূচি চালু করেন, যার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
- নিবন্ধন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ায় রেড ঈগল ল নামের আইন প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী কার্টিস মরিসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে আদালত ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরুর নির্দেশ দেন।
- আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা, ১ নভেম্বর নিবন্ধন শুরু এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিতদের জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে কমসংখ্যক মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে ডিভি লটারি কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এই আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক বা চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসনের প্রচলিত পথের বাইরে থেকেও যোগ্য ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেয়ে আসছেন। প্রতি বছর এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে মূল আবেদনকারী এবং তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৭ সালের কর্মসূচির নিবন্ধন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী কার্টিস মরিসন আদালতে যুক্তি দেন যে, নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা না করায় কর্মসূচিটি কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা, ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের জানানোর অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন।
আদালতের রায়ের পর প্রক্রিয়াটি চালুর পথ তৈরি হলেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মার্কিন প্রশাসন এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া, লটারিতে নির্বাচিত হলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা মেলে না; আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা এবং অপরাধমুক্ত থাকার শর্তসহ অন্যান্য আইনি মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করতে হয়।
সমালোচকরা এই কর্মসূচির পরিবর্তে দক্ষ কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও, সমর্থকদের মতে এটি বৈচিত্র্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালের আইন প্রণয়নের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্রুস মরিসন এর আগে এই কর্মসূচির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিশ্রমী মানুষদের আকৃষ্ট করার এটি একটি অন্যতম সেরা উপায়। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এড়িয়ে কংগ্রেসের প্রণীত এই আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।