তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত জমায়েতকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। অভিষেক দাবি করেন, বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশের গালে চড় মেরেছে। তিনি আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষ ও ইটবৃষ্টিতে অন্তত ৭ জন আহত হন।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা তাঁর বাড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত কলকাতা পুলিশের গায়ে হাত তুলেছে ও গালে চড় মেরেছে।
- ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে অভিষেক রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবস্থানে বসেন এবং পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন মধ্যরাতে অভিষেকের অনুগামীরা তাঁর বাসভবনের সামনে সমবেত হন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় কিছু বিজেপি কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে 'চোর' স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মীরা পাল্টা স্লোগান দিলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ। তবে পুলিশের সামনেই দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে, যা প্রায় ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ভোররাতে সাংসদ দোলা সেন অভিষেকের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান।
সংঘর্ষের পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি আশ্রিত গুণ্ডারা তাঁকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর অনুগামীরা উপস্থিত না থাকলে তাঁকে মেরেই ফেলা হতো। এছাড়া, হামলাকারীরা কলকাতা পুলিশের গালে চড় মেরেছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মধ্যরাতের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেক লেখেন, কলকাতা পুলিশের চোখের সামনে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে নীরব দর্শক থাকার জন্য তিনি উচ্চ আদালতগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে দক্ষিণ কলকাতা ও কালীঘাট এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। জন্মদিনের আগের রাতে এমন নজিরবিহীন সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও চরমে পৌঁছেছে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।