কারাগার থেকে আদালতে আসামি হাজিরের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা গেলে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সিএমএম কোর্টে পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, সারা দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখ মামলা চলমান রয়েছে, যা ২৩শ বিচারকের জন্য নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত দুরূহ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, কারাগার থেকে আদালতে আসামি হাজিরের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে যা বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
- সারা দেশের আদালতগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা চলমান রয়েছে এবং তা নিষ্পত্তি করতে দেশের ২৩শ বিচারককে চরম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
- সাইবার আইন অধিকতর জনসম্পৃক্ত করতে এবং সংবিধান সংশোধনে জুলাই যোদ্ধা, নিহতদের পরিবার, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কারাগার থেকে আদালতে আসামি হাজিরের বিষয়টি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে দেশের বিচার ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার সিএমএম কোর্টে পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে আরও জনবান্ধব, উন্নত এবং জনগণের পূর্ণ আস্থার প্রতীকে পরিণত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের বর্তমান বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৪৬ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার পাহাড় এত কম সংখ্যক অর্থাৎ মাত্র ২৩শ বিচারকের পক্ষে দ্রুত নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সময়ের আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইনটিকে আরও বেশি জনসম্পৃক্ত ও যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন অংশীজনদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও একপেশে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, নিহতদের পরিবারের সদস্য, অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযুক্তি ঘটলে হাজিরা দেওয়ার নামে পুলিশি প্রহরায় আসামিদের যাতায়াত ব্যয় ও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।