ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের নভেম্বর মাসের কিস্তির অর্থ বিতরণ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আধার সংযোগের বিভ্রাটের কারণে বহু উপভোক্তার প্রাপ্য টাকা অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কাকদ্বীপের এক জনসভায় এই অনিয়মের কঠোর সমালোচনা করে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের নভেম্বর মাসের কিস্তি বিতরণের সময় আধার কার্ডের তথ্যMismatch হওয়ায় বহু উপভোক্তার টাকা ভুল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।
- বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কাকদ্বীপের একটি রাজনৈতিক সভা থেকে এই আর্থিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
- সাম্প্রতিক সময়ে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে নতুন করে প্রায় ৮ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই এই ত্রুটি ও প্রশাসনিক জটিলতা সামনে এল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প 'অন্নপূর্ণা যোজনা'র নভেম্বর মাসের কিস্তির অর্থ বিতরণ ঘিরে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে हालেই এই প্রকল্পে নতুন করে প্রায় ৮ লক্ষ মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বিস্তৃতির পরপরই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি প্রকাশ পেতে শুরু করে, যার ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বরের সঠিক সংযোগ বা সিডিং (Aadhaar Seeding) না থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভাতার টাকা নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে না পৌঁছে অন্য কোনো অচেনা ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে। আধার পেমেন্ট ব্রিজ সিস্টেমের (APBS) এই বিভ্রাটের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি কাকদ্বীপের একটি জনসভায় এই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করার ফলেই এই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা সরাসরি সাধারণ গরিব মানুষের অধিকারের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রকল্পগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোর না করলে এই ধরনের আধার বিভ্রাট জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সরকারি দফতরগুলোর সমন্বয়ে এই ত্রুটি সংশোধন করে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।