৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অযৌক্তিক দাবি করে সংস্থাটির সঙ্গে আগের ঋণ চুক্তি বাতিল এবং নতুন ঋণ কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার 'বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে দাতাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বন্ড মার্কেট ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রোববার ঢাকায় 'বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফ-এর সঙ্গে পূর্বের ঋণ চুক্তি বাতিল ও নতুন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
- অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা গতানুগতিক দাতা সংস্থার ঋণ দিয়ে সম্ভব নয়।
- দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য নিউইয়র্কে ডলার বন্ড, হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড, সামুরাই বন্ড ও প্যান্ডা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের করা ঋণ চুক্তি বাতিল এবং সংস্থাটির নতুন ঋণ কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত 'বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানান যে, আইএমএফের শর্তগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। দাতা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এর আগে গত জুনে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে আবেদন করেছিল এবং চলতি মাসেই সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় সরকারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাজেট নথিতে প্রথম দুই বছরে বড় কোনো সংস্কারে না যাওয়ার কথা বলা হলেও আইএমএফ মূলত সুনির্দিষ্ট সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের শর্ত দিয়ে আসছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বা সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, বর্তমান দেশের যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাতে আইএমএফের অর্থায়ন এড়িয়ে চলা সরকারের জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার ছাড়া বৈশ্বিক এই সংস্থার তহবিল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ঘাটতি মেটাতে সরকার এখন গতানুগতিক বৈদেশিক ঋণের পরিবর্তে 'হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট'-এর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে ডলার বন্ড, হংকংয়ে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড এবং জাপানি সামুরাই ও চীনা প্যান্ডা বন্ডের মতো বৈশ্বিক ফাইন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের ফাইন্যান্সিং স্ট্রাকচার বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।