৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"সংস্কার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়নি। কঠোর শর্ত ও রাজস্ব পরিকল্পনায় অনড় অবস্থানের কারণে সরকার ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের আগের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, শর্ত মেনে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে বাংলাদেশ আগের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করছে।
- গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল এবং আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে ঋণ কর্মসূচি স্থগিতের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
- আইএমএফের পক্ষ থেকে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ, করছাড় বাতিল এবং বিদ্যুৎ ও সারে সার্বজনীন ভর্তুকি তুলে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হলেও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সংস্কার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের সমঝোতা না হওয়ায় আগের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে সংস্থাটির কঠোর শর্ত এবং রাজস্ব পরিকল্পনায় অনড় অবস্থানের কারণে সরকার ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের আগের ঋণ কর্মসূচি বাতিল করেছে। এর পরিবর্তে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে দেনদরবার চলছে।
গত রোববার বিনিয়োগ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইএমএফের কঠিন শর্ত মেনে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না। এর আগে গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এবং আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন দলের উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে আগের ঋণ কর্মসূচি স্থগিতের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হলেও রাজস্ব আদায় ও আর্থিক খাত সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার স্থগিত করেছিল আইএমএফ।
আইএমএফের পক্ষ থেকে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ, করছাড় বাতিল এবং বিদ্যুৎ ও সারে দেওয়া সর্বজনীন সরকারি ভর্তুকির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট নগদ অর্থ স্থানান্তরের জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনস্বার্থ ও নির্বাচনি ইশতেহারের পরিপন্থী কোনো দাতা সংস্থার শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইএমএফের যৌথ আলোচনায় নতুন বিকল্প কাঠামোর ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত চূড়ান্ত করতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নতুন দফার আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের সঙ্গে এই আলোচনা সফল হওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই চুক্তি আন্তর্জাতিক আর্থিক আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রতিবছর অতিরিক্ত তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ হয়। সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ সামাল দিতে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই নতুন শর্তের অধীনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Amar Desh-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।