রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিনকে নিজ কার্যালয়ে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ডা. মো. শফিউল আলম ও ডা. মো. আতিকুর রহমানের ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। গত বুধবারের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় চিকিৎসা অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
- ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ডা. মো. শফিউল আলম ও ডা. মো. আতিকুর রহমানের প্রাথমিক সদস্যপদ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
- প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত চিকিৎসকরা আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং দাপ্তরিক কাজে বাধা প্রদানসহ অশালীন আচরণ করেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিনকে নিজ কার্যালয়ে ঢুকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন ডা. মো. শফিউল আলম ও ডা. মো. আতিকুর রহমান। গত বুধবার দুপুরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে, যা জানাজানি হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমানকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি এবং মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।
আইইডিসিআর-এর মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর এমন হামলা দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।