সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের রায়ে জালিয়াতির অভিযোগে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮টি মামলার রায় পর্যালোচনা করবে। আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানি ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মোট ১৮টি মামলার রায় ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করবে।
- অভিযুক্ত আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন আবেদনকারীদের যুক্ত করে রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে জালিয়াতির ৯টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
- আপিল বিভাগ আগামী ২৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৬ নভেম্বর ধার্য করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের রায়ে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মোট ১৮টি মামলার রায় ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক, অন্যদিকে অভিযুক্ত আইনজীবীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের একটি রিট মামলা থেকে, যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল বাতিল করে নতুন মেধাতালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে নতুন আবেদনকারীদের পক্ষে রায় পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এমন অন্তত ৯টি মামলায় জালিয়াতির মাধ্যমে রায় পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি অভিযুক্ত আইনজীবীকে ঢাকা ত্যাগ না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগে শুনানিকালে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তার কর্মকাণ্ডের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন, যা বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এই তদন্তের ফলাফল দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনি পেশার নৈতিকতা ও বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আগামী ২৩ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২৬ নভেম্বরের শুনানিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।