৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক গেজেট অনুযায়ী, শতভাগ বা ৫১ শতাংশ সরকারি-বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং অন্তত এক হাজার কোটি টাকা বার্ষিক লেনদেন থাকা কোম্পানিগুলো এই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুবিধা পাবে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক নতুন বিধিমালা গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
- সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য সাত শ্রেণির কোম্পানি বিবেচিত হবে, যার মধ্যে শতভাগ বা ৫১ শতাংশ সরকারি বা বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- চূড়ান্ত বিধিমালায় কোম্পানির যোগ্যতার শর্ত হিসেবে বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদ কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ অন দ্য স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬’ শীর্ষক নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এই বিধিমালা প্রকাশের পর ১৯ অক্টোবর সোমবার বিএসইসি এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। নতুন এই বিধিমালার ফলে যোগ্য কোম্পানিগুলো নতুন শেয়ার ইস্যু করে আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে সরাসরি মূলধন সংগ্রহ না করে, বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
এই নতুন নিয়মের আওতায় দেশের পুঁজিবাজারে ভালো, প্রতিষ্ঠিত ও মানসম্মত কোম্পানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিএসইসির চূড়ান্ত বিধিমালা অনুযায়ী মোট সাত শ্রেণির কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের মালিকানায় থাকা কোম্পানি এবং শতভাগ বা কমপক্ষে ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্যের তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে।
খসড়া বিধিমালায় বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা থাকলেই যোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকলেও, চূড়ান্ত বিধিমালায় তা সংশোধন করে বার্ষিক লেনদেন কমপক্ষে ১ হাজার কোটি টাকা হওয়ার কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিএসইসিতে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি এবং ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট কোম্পানিও এই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। কমিশন প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনায় ভবিষ্যতে অন্য কোনো কোম্পানিকেও এই নীতিমালার আওতাভুক্ত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ভালো কোম্পানির যে খরা চলছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। বহুজাতিক ও বড় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিধিও আরও প্রশস্ত হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার Sonalinews.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।