ফিলিপিন্সের ম্যানিলায় ফার্নান্দো এয়ার বেসে প্রশিক্ষণ চলাকালীন বায়ুসেনার দুটি এসএফ-২৬০ একক প্রপেলারযুক্ত বিমান মাঝ আকাশে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। শুক্রবার দুপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা চারজন পাইলটই নিহত হয়েছেন। বায়ুসেনার মুখপাত্র কর্নেল আলভিন কাপিনগুইয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই মডেলের সব বিমান সাময়িকভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ফিলিপিন্সের ম্যানিলার দক্ষিণে অবস্থিত ফার্নান্দো এয়ার বেসে প্রশিক্ষণকালে বায়ুসেনার দুটি এসএফ-২৬০ একক প্রপেলারযুক্ত বিমান ভেঙে পড়ে এবং এতে ৪ জন পাইলট নিহত হন।
- ফিলিপিন্স বায়ুসেনার মুখপাত্র কর্নেল আলভিন কাপিনগুইয়ান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এই ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে এসএফ-২৬০ সিরিজের সব জেট আপাতত বসিয়ে রাখা হয়েছে।
- গত মে মাসে উত্তর ফিলিপিন্সের বেনগুয়েত প্রদেশে একই সিরিজের বিমান দুর্ঘটনায় ২ জন পাইলট নিহত হওয়ার পূর্বের ইতিহাস থাকায়, বর্তমান দুর্ঘটনাটি নিয়ে বিমানবাহিনীর প্রযুক্তিগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে অবস্থিত ফার্নান্দো এয়ার বেসে প্রশিক্ষণ চলাকালীন বায়ুসেনার দু'টি এসএফ-২৬০ (SF-260) একক প্রপেলারযুক্ত বিমান ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চারজন পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে ঘটা এই ঘটনায় পুরো ফিলিপিন্সজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় বিমান দু'টি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেগুলো এয়ার বেসের ভেতরে আছড়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এয়ার বেসের পারিপার্শ্বিক এলাকায় অন্য কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা বেসামরিক প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই ফিলিপিন্স বায়ুসেনার মুখপাত্র কর্নেল আলভিন কাপিনগুইয়ান সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন। তিনি জানান, বিমান দু'টি রুটিন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আকাশে উড়েছিল। ঠিক কী কারণে মাঝ আকাশে এই বিপর্যয় ঘটল, তা উদঘাটনে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো নেপথ্য কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ফিলিপিন্স বায়ুসেনার বহরে থাকা এসএফ-২৬০ সিরিজের সমস্ত বিমান মাটিতেই grounded বা বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিলিপিন্স বায়ুসেনার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রশিক্ষণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশটিতে একাধিকবার এই সিরিজের বিমান বিধ্বংসী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। গত মে মাসে উত্তর ফিলিপিন্সের বেনগুয়েত প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলার সময়ই এসএফ-২৬০ সিরিজের একটি বিমান ভেঙে পড়ে দুই পাইলট প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের দিকেও একই মডেলের মার্কেট্টি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। ধারাবাহিক এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ফলে ফিলিপিন্সের সামরিক বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈমানিকদের নিরাপত্তা মান নিয়ে এখন দেশজুড়ে তীব্র প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ধারাবাহিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ফিলিপিন্সের সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সুরক্ষা প্রটোকল কঠোর করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবিলম্বে এসএফ-২৬০ বিমানগুলোর ইঞ্জিন এবং অ্যারোডাইনামিকস পরীক্ষা করা জরুরি। এই তদন্তের ফলাফল শুধু ফিলিপিন্স নয়, বরং এই মডেলের বিমান ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশের বিমানবাহিনীর জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তার বার্তা বয়ে আনবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।