আজ বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা, নির্দেশক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মঞ্চসারথি আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই গুণী শিল্পী ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক এবং নাগরিক নাট্যাঙ্গনের অন্যতম পুরোধা এই ক্ষণজন্মা শিল্পীর জন্মদিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাট্যকর্মী গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মঞ্চসারথি আলী যাকের এবং ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
- তিনি নাট্যসংগঠন 'নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৭ই সালে মঞ্চে আসা নুরুলদীনের সারাজীবন, দেওলা রাজা, ম্যাকবেথসহ বহু নন্দিত নাটকের নির্দেশক ও অভিনেতা ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'একুশে পদক' প্রদান করে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, মঞ্চসারথি আলী যাকেরের জন্মদিন। ১৯৪৪ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই মহান শিল্পী স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণ ও নাট্য আন্দোলনের অগ্রপথিকদের একজন। বাংলা নাটকে তার অবদান অবিস্মরণীয় এবং তার জন্মদিনে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠন নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করছে।
আলী যাকেরের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বিভিন্ন জেলায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে নাট্যদল 'নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়'-এর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। পরবর্তীতে এই দলের প্রধান হিসেবে বহু কালজয়ী নাটক মঞ্চে নিয়ে আসেন এবং বাংলা নাট্যকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেন।
মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও আলী যাকের তার অসাধারণ অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছেন। 'আজ রবিবার' নাটকে মাজেদ চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। এছাড়া তিনি বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্র্রি সিক্সটি-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের করপোরেট সংস্কৃতির অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। শিল্প-সংস্কৃতিতে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে তাকে একুশে পদক দেওয়া হয়।
২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণ ঘটলেও তার আদর্শ, নাটক ও সাংস্কৃতিক চেতনা আজও বাংলাদেশের মুক্তমনা ও নাট্যপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে। আজকের দিনে এই ক্ষণজন্মা শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে দেশের পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।