বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ ও ‘সংখ্যালঘু’ শব্দদ্বয়ের ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, কাউকে খাটো না করে স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে দেশি-বিদেশি গবেষক ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকোর সহযোগিতায় ‘Community-Based Safeguarding Strategies for Intangible Cultural Heritage’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
- সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মন্ত্রী ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ এবং ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ দুটিকে আপত্তিকর ও অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করে তাদের স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
- অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম ও ইউনেসকোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকোর যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘Community-Based Safeguarding Strategies for Intangible Cultural Heritage’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই এবং বৈচিত্র্যের মধ্যেই জাতীয় ঐক্যের আসল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ এবং ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ এই ধরনের বিভাজক ধারণাগুলো ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে জনমিতির রূপান্তর থেকে উদ্ভূত। কিন্তু আধুনিক ও বৈষম্যহীন সমাজে এই শব্দগুলোর ব্যবহার আপত্তিকর। তাই কাউকে সংখ্যালঘু বা ক্ষুদ্র বলে অবমূল্যায়ন না করে তাদের স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তা হিসেবে সাংবিধানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। সবাই মিলে আমরা একটি একক জাতি এবং আমাদের সকলের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং এর টেকসই সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনেসকো বাংলাদেশের অফিসপ্রধান ও প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং আন্তর্জাতিক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী আলেকজান্দ্রা ডেনেস।
এই সেমিনারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক কৌশল প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা কেবল তাদের অধিকার নয়, বরং তা সমগ্র জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিশ্বকোষকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।