উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার ভূপেন হাজারিকার প্রয়াণ দিবসে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই সুরসম্রাট ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মারা যান। তাঁর সৃষ্টিশীল লোকসংগীত ও কালজয়ী গান আজও দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান রয়েছে। তাঁর মতো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের শূন্যতা আজও অপূরণীয় রয়ে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও সুরসম্রাট ভূপেন হাজারিকা ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এবং ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামের সাদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর কালজয়ী গান যেমন 'বিস্তীর্ণ দুপারের' ও 'মানুষ মানুষের জন্য' উপমহাদেশজুড়ে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পীরা তাঁকে স্মরণ করে আধুনিক সংগীতের বিকাশ ও লোকশিল্পের প্রসারে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুরসম্রাট এবং মরমী কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আসামের সাদিয়ায় জন্ম নেওয়া এই মহান শিল্পী ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণ দিনে দুই বাংলার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছেন। ভূপেন হাজারিকা কেবল আসাম বা ভারতের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের হৃদয়ে সংগীতের মাধ্যমে ভালোবাসার সেতু বন্ধন তৈরি করেছিলেন।
তিনি তাঁর দীর্ঘ সংগীত জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন, যা মানবতা, সাম্য এবং প্রকৃতির জয়গান গেয়েছে। 'বিস্তীর্ণ দুপারের', 'মানুষ মানুষের জন্য' কিংবা 'গঙ্গা আমার মা' এর মতো গানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। সংগীতের পাশাপাশি সাহিত্য, চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং লোক সংস্কৃতির গবেষণায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার জন্য তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আজ তাঁর স্মরণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে এবং অন্যান্য বক্তারা ভূপেন হাজারিকার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আসামের সংস্কৃতিতে তাঁর অনন্য উচ্চতার কথা স্মরণ করেছেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ভূপেন হাজারিকার পর জুবিন গর্গের মতো শিল্পীরা তাঁর দেখানো পথেই আসামের লোকসংগীত ও আধুনিক গানকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন।
ভূপেন হাজারিকার আদর্শ ও তাঁর সুরের আবেদন বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে চলছে। তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর গান চর্চার মাধ্যমে আসাম তথা সমগ্র ভারতের লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সৃষ্টি যতদিন থাকবে, ততদিন তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরূক হয়ে বেঁচে থাকবেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।