ভারতের মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ ও বীড় অঞ্চলের আখ কাটা নারী শ্রমিকেরা ঋতুস্রাব ও গর্ভাবস্থায় কাজ হারানোর ভয়ে জরায়ু কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। ঠিকাদারদের নির্যাতন, চড়া সুদে নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ এবং কাজের দিন না হারানোর অনৈতিক শর্তের কারণে হাজার হাজার নারী শ্রমিক এই অমানবিক ও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মহারাষ্ট্রের বীড় ও বিদর্ভ অঞ্চলের আখ খেতের হাজার হাজার নারী শ্রমিক ঋতুস্রাবের সময় ছুটির অভাব এবং কাজ হারানোর ভয়ে জরায়ু অপসারণ অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন।
- চুক্তিভিত্তিক আখ কাটার কাজ পাওয়ার জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে চড়া সুদে অগ্রিম ঋণ নেন এই শ্রমিকেরা, যা পরিশোধ করতে গিয়ে তারা শারীরিক এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
- গর্ভধারণ বা মাসিক চলাকালীন দৈনিক মজুরি কাটা এবং কাজ থেকে বরখাস্ত করার মতো শোষণের শিকার হয়ে নারীরা এই স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের বিদর্ভ এবং বীড় অঞ্চলের আখ খেতগুলো থেকে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক তথ্য উঠে এসেছে। জীবন জীবিকার তাগিদে আখ কাটার কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকেরা ঋতুস্রাব ও গর্ভাবস্থায় ছুটি না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে তাদের জরায়ু কেটে বাদ দিচ্ছেন। মূলত কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ঠিকাদারদের কঠোর শর্তের জাঁতাকলে পড়ে এই নারী শ্রমিকেরা নিজেদের শরীর চিরতরে ঝুঁকিতে ফেলছেন।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে স্থানীয় ঠিকাদারদের শোষণমূলক ব্যবস্থা। আখ কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ঠিকাদাররা এই নারী শ্রমিকদের চড়া সুদে অগ্রিম অর্থ বা ঋণ প্রদান করেন। ঋণের টাকা পরিশোধের শর্ত থাকে কঠোর। ঋতুস্রাবের সময় বা গর্ভাবস্থায় কাজে অনুপস্থিত থাকলে দৈনিক মজুরি কাটা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে পেটের টানে এবং ঋণের চাপ এড়াতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু ফেলে দেওয়াকেই একমাত্র উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তারা।
চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জরায়ু অপসারণের মতো বড় এই অস্ত্রোপচার অপ্রয়োজনীয়ভাবে করানোর ফলে এসব নারী শ্রমিক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। অল্প বয়সেই তাদের শরীরে হরমোনজনিত জটিলতা, তীব্র শারীরিক দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী কোমর ও পেটে ব্যথা এবং মানসিক অবসাদ দেখা দিচ্ছে। অথচ গ্রামীণ দরিদ্র সমাজে এই সমস্যার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিতই থেকে গেছে।
শ্রমিক অধিকার আন্দোলনকর্মী এবং নারীবাদী সংগঠনগুলো এই অমানবিক প্রথার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। আখ খেতের ঠিকাদার ও সুদমনিদের এই ধরনের অবৈধ শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি উঠেছে সারা দেশ জুড়ে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।