জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শীর্ষ নারী নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া, অগণতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি পুনর্গঠন এবং নারী নেতৃত্বের অবমূল্যায়নের অভিযোগে বৃহস্পতিবার যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেন। এর আগে ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীন একই কারণে দল ছাড়েন। এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ সংকট দলটির রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠনের প্রতিবাদে ডা. তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন এবং সর্বশেষ সামান্তা শারমিনসহ একাধিক শীর্ষ নারী নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
- গত ২৩ অক্টোবর কোনো কাউন্সিল বা সম্মেলন ছাড়াই এনসিপি তাদের আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করে, যা দলের ভেতরে অগণতান্ত্রিক চর্চা ও স্বচ্ছতার অভাব হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
- পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, এনসিপি নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পরিবর্তে রক্ষণশীল ধারায় পরিচালিত হচ্ছে এবং জামায়াতের সহযোগী হিসেবে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ফেলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের তিন বছরের মাথায় দলটির শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে এনসিপির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এল। মূলত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া, দলের ভেতরে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি পুনর্গঠন এবং নারী নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগে একের পর এক শীর্ষ নারী নেতা দল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
এনসিপির এই সংকটের সূত্রপাত মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার সময় থেকে। সেই সময় ডা. তাসনিম জারা এবং তাজনূভা জাবীন জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। এছাড়া দলের ৩০ জন নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে এই জোটের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তি উপেক্ষা করে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক কৌশল বজায় রাখায় দলের ভেতরে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে।
সর্বশেষ পদত্যাগকারী সামান্তা শারমিন তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, এনসিপি জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার কাছে নতি স্বীকার করছে, যার ফলে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। গত ২৩ অক্টোবর কোনো কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠিত কমিটিতে পদাবনতি ও অস্পষ্ট পদবণ্টনের বিষয়টিও তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এনসিপি নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগ হারাচ্ছে এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই অস্থিরতা দলটির ভবিষ্যৎ জনসমর্থন ও সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টিকে 'কৌশলগত জোট' এবং স্বাভাবিক সাংগঠনিক পরিবর্তন হিসেবে দাবি করছে, তবে অভিজ্ঞ নারী নেতাদের এই প্রস্থান দলটির অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে এনসিপি কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।