লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

আমির, আসিফ, বাট: তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের পতন ও এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের ১৫ বছর

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 03 নভেম্বর 2026, 02:50 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 33 বার পঠিত
আমির, আসিফ, বাট: তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের পতন ও এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের ১৫ বছর
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

আজ থেকে ঠিক ১৫ বছর আগে ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে স্তম্ভিত করেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট এবং দুই পেসার মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ডের স্টিং অপারেশনে এই দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং পরবর্তীতে কারাদণ্ড হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে নো-বল করার অপরাধে মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ ও সালমান বাট স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যান।
  • ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড 'নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর সাংবাদিক মজর মাহমুদের গোপন অভিযানে বুকি মাজহার মজিদের সাথে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুর্নীতির চুক্তি প্রকাশ পায়।
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) ও পরবর্তীতে ব্রিটিশ আদালত সালমান বাটকে ১০ বছর, মোহাম্মদ আসিফকে ৫ বছর এবং মোহাম্মদ আমিরকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা ও কারাদণ্ড প্রদান করে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আজ থেকে ঠিক ১৫ বছর আগে ২০১০ সালের আগস্ট মাসে লর্ডস টেস্টে ঘটে যাওয়া এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তৎকালীন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট এবং দলের দুই অন্যতম ভরসাযোগ্য পেসার মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ লর্ডস টেস্টে নির্দিষ্ট সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নো-বল করার অপরাধে ফেঁসে যান। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড 'নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং বুকি মাজহার মজিদের গোপন ক্যাশ লেনদেনের ভিডিও ফাঁসের মাধ্যমে এই ম্যাচ গড়াপেটার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

এই কেলেঙ্কারির তদন্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ এবং মোহাম্মদ আমিরকে কারাদণ্ড প্রদান করে। ক্রিকেট বিশ্ব এই ঘটনার মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব ধাক্কা খায়, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য চরম সংকটে ফেলে দেয়। নিষিদ্ধ এই তিন ক্রিকেটারের মধ্যে পরবর্তীতে মোহাম্মদ আমির খেলায় ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিছু সাফল্য পেলেও, বাট ও আসিফের ক্যারিয়ার চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়।

ঘটনার দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্রিকেট মহলে দুর্নীতি বিরোধী কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা এবং সততার প্রশ্নটি এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের মাধ্যমে বারবার সামনে আসে। তৎকালীন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের নৈতিক স্খলন নিয়ে আজও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। ম্যাচ গড়াপেটার মতো অপরাধ যে পুরো একটি দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে কতটা পেছনে ঠেলে দিতে পারে, লর্ডস টেস্টের সেই ঘটনা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও আইসিসি পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন ইউনিটকে (ACU) আরও শক্তিশালী করে এবং বিশ্বজুড়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে। আমির, আসিফ ও বাটের সেই পতন বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা আধুনিক ক্রিকেটেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ