তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্রের দায় মেটানোর অতিরিক্ত চাপে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকভেদে বিক্রির দর ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি ব্যয় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় পৌঁছেছে, যা আগের দিন ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা।
- ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি ডলার প্রতি বিক্রির দর ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং কেনার দর ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে, আর খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকায়।
- চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে আমদানি ব্যয় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্রের (এলসি) দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকার কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা থাকার পর বৃহস্পতিবার ডলারের গড় বিনিময় হার সামান্য বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও বাড়তি দামে ডলার লেনদেন করছে, যার প্রভাব পড়েছে পুরো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে।
চলমান এই পরিস্থিতির পেছনে কাজ করছে মূলত জ্বালানি আমদানির বাড়তি চাপ। ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি বৃহস্পতিবার ডলার প্রতি বিক্রির দর ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং কেনার দর ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে, যা আগের দিন যথাক্রমে ১২৪ টাকা ২৮ পয়সা ও ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা ছিল। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে ডলার প্রতি বিক্রির সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৪ টাকা ২০ পয়সা। মাস শেষের দায় পরিশোধ এবং প্রবাসী আয় আসার গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় বাজারে ডলারের এই সাময়িক চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে দেশের মোট আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ২২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম চড়া থাকায় দেশের আমদানির ওপর এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এত কিছুর মধ্যেও গত ১৯ অক্টোবর বিপিএম৬ মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের মোট রিজার্ভ বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ২৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
ডলারের এই ঊর্ধমুখী প্রবণতা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বাজারে ডলারের প্রবাহ ও চাহিদা মূলত ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। খোলাবাজারেও এর প্রভাব দৃশ্যমান, যেখানে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সামগ্রिक রিজার্ভের পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় এই বিনিময় হারের ওঠানামা খুব দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।