মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিস্টদের ক্লাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং বর্তমান সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘ফ্যাসিস্টদের ক্লাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দলটি কখনোই স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি এবং সব সময় লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে।
- ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকাল ও জুলাই বিপ্লবের সকল হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
- সংবিধানের নিছক ‘ঘষামাজা’ নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘ফ্যাসিস্টদের ক্লাব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই সম্মানজনকভাবে ক্ষমতা ছাড়তে পারেনি এবং ভবিষ্যতে যারা তাদের পথ অনুসরণ করবে, তাদের পরিণতিও একই হবে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ওই ঘটনার সকল মামলার নথিপত্র গায়েব করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার চায় না, বরং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করতে চায়। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে খুনিদের বিচারের আওতায় আনা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ কেবল সংবিধানের সংশোধন বা ‘ঘষামাজা’ চায় না, বরং তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন চায়। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ফ্যাসিবাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বাধা আসলে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
সভায় শফিকুর রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, রাজনীতি হতে হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে। তিনি বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি তার বক্তব্যে গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।