প্রতিবেশী ভুটানে হিমবাহ ধসের ফলে আচমকা প্রচুর পানি নেমে আসায় উত্তরবঙ্গের সঙ্কোষ নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামসহ সংলগ্ন এলাকায় মহা বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার রাতেই হাই অ্যালার্ট জারি করে প্রশাসন। রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নদীপারের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভুটানে হিমবাহ ধসের জেরে হঠাৎ করে সংকোষ নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরবঙ্গে বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- পরিস্থিতি গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার রাতেই আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম, চেংমারি, ভালকা বারাবিসা, ঝারাগুড়ি ও পাকরিগুড়ি এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
- রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জরুরি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নদী সংলগ্ন বনগ্রাম ও চা-বাগান এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রতিবেশী দেশ ভুটানে হিমবাহ ধসের কারণে আচমকা নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে চরম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভুটান থেকে নেমে আসা পানি সঙ্কোষ নদীতে তীব্র বেগে ধেয়ে আসায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী জনপদগুলোতে বৃহস্পতিবার রাতেই হাই অ্যালার্ট জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। আকস্মিক এই জলস্ফীতি অতীতে নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ তড়িঘড়ি একটি সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় তিনি কুমারগ্রাম, চেংমারি, ভালকা বারাবিসা, ঝারাগুড়ি, পাকরিগুড়ি এবং সঙ্কোষ সংলগ্ন বিভিন্ন বনগ্রাম ও চা-বাগান এলাকার বাসিন্দাদের আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নদীর ধার ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। বিগত কয়েক বছর ধরে হিমালয়ান অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরণের আকস্মিক ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ডব্লিউবিডিআরএফ) ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা উত্তরবঙ্গের চা শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন এলাকার কৃষিজমি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বসতি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলোর এই অস্থিতিশীলতা আগামী দিনে এই অঞ্চলের জনজীবন ও নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।