ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ তদন্তকারীদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। বিএনপি সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় বলে দাবি করে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বর্তমান তারেক রহমান সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ তদন্তকারীদের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ফলে বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে এবং ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
- নিরাপত্তাঝুঁকি ও গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর শঙ্কা সত্ত্বেও আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গণঅভুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছরের বেশি সময় পর এবার রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং তা সরকারিভাবে বহাল রাখার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এই আবেদন করা হয়েছে। মুজিব-কন্যার দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের সংবিধান সরাসরি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং দেশের মূল রাজনৈতিক দলগুলোর একটিকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসিনা জানান, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দলটির নেতাকর্মীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে গেলে তাদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে বলেও রাষ্ট্রসংঘের কাছে অভিযোগ পেশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ তদন্তকারীদের কাছে পাঠানো এই আবেদনে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সার্বিক নির্বাচনের দাবিতে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে তিনি যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। তাঁর ভাষায়, জীবন নিয়ে সংশয় বা গ্রেপ্তারের ভয় থাকলেও মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপ এবং তাঁর ভারতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে একধরনের অদৃশ্য উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ভারত সফর না করায় দুই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। হাসিনার এই আন্তর্জাতিক লবিং এবং দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।