নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ পাঁচটি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর আইন অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ করদাতাদের ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াও স্থগিত বা বাধাগ্রস্ত করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট করদাতার গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর আইন অনুযায়ী নতুন এই কঠোর পদক্ষেপে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি এবং ক্রেডিট কার্ড সেবা স্থগিত রাখা হবে।
- টিআইএন বা ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন দাখিল না করলে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে নাগরিকদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এনবিআর এবার রিটার্ন দাখিলে চরম কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর অংশ হিসেবে রিটার্ন জমা না দেওয়া ব্যক্তিদের গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ মোট পাঁচ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও যারা সময়মতো রিটার্ন জমা দেবেন না, তাদের দৈনন্দিন নাগরিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অন্যতম শর্ত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন স্থগিত রাখা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করদাতার পরিধি বাড়াতে এবং রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অতীতে শুধুমাত্র নোটিশ বা সামান্য জরিমানার মাধ্যমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর থেকে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ইউটিলিটি সার্ভিস বা সেবামূলক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করার বিধান যুক্ত হওয়ায় করদাতাদের মধ্যে বাড়তি সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, সাধারণ নাগরিকেরা যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রক্রিয়াটি যেন পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ থাকে, সেদিকে এনবিআরকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সার্বিকভাবে এই পদক্ষেপ দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সাহায্য করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।