লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে খাবারে মিশতে পারে সিসা: গবেষণা

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 05 নভেম্বর 2026, 03:10 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 39 বার পঠিত
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে খাবারে মিশতে পারে সিসা: গবেষণা
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

আইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা মিশছে। নতুন হাঁড়িতে রান্না করা প্রতি কেজি ভাতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম ও খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে, যা এফডিএ নির্ধারিত ১০ মাইক্রোগ্রামের সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এই বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা প্রতি কেজি ভাতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ নির্ধারিত ১০ মাইক্রোগ্রাম সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
  • পাত্র পরিষ্কারের পদ্ধতির ওপর সিসার নিঃসরণ নির্ভর করে; স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে নতুন পাত্র ঘষে পরিষ্কার করলে না ঘষার তুলনায় খাবারে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা মিশে যায়।
  • আইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাটি 'নেচার' জার্নালের 'জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি'তে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ২০টি নতুন ও ৭টি ব্যবহৃত পাত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে। এই মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কর্তৃক শিশুদের জন্য নির্ধারিত ১০ মাইক্রোগ্রাম সীমার চেয়ে উদ্বেগজনকভাবে বেশি।

গবেষণাটি 'নেচার' জার্নালের 'জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি'তে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বাংলাদেশের বাজার থেকে সংগৃহীত ২০টি নতুন এবং পরিবার থেকে সংগৃহীত ৭টি ব্যবহৃত পাত্র পরীক্ষা করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে পাত্র তৈরির সময় সিসার উপস্থিতি থেকে যায়। এছাড়া রান্নার ধরন, ধাতব খুন্তির ব্যবহার এবং স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে পাত্র ঘষে পরিষ্কার করার ফলে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

আইসিডিডিআর,বির এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ড. জেসমিন সুলতানা এবং স্ট্যানফোর্ডের প্রজেক্ট আনলেডেডের পরিচালক ড. জেনা ফরসিথ জানান, রক্তে সিসার কোনো মাত্রাই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার ব্যবহারের ফলে সিসার মাত্রা কিছুটা কমলেও তা কখনোই নিরাপদ সীমার নিচে নামে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুরা যে পরিমাণ ভাত খায়, তাতে তারা এফডিএ নির্ধারিত রেফারেন্স মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি সিসা গ্রহণ করছে, যা তাদের শেখার ক্ষমতা ও আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষকরা পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর উচিত রান্নার পাত্রের মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা। নিরাপদ রান্নার পাত্র নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ