যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ৫ নম্বর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। নির্বাচনে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। ২০১৮ সালে প্রথম মুসলিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে জর্জিয়া স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। তার এই জয়ে জন্মস্থান বাজিতপুরে আনন্দের জোয়ার বইছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ৫ নম্বর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন, যেখানে তার প্রাপ্ত প্রাথমিক ভোট দেখানো হয়েছে ৩৫ হাজার ১০১টি।
- গত ১৯ মে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে ৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন শেখ রহমান, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রবিন ম্যাককয় পেয়েছিলেন ৫ হাজার ১৬৬ ভোট।
- শেখ মুজাহিদুর রহমান কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই এবং তিনি ২০১৮ সালে জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ৫ নম্বর আসনে সাধারণ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনি ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে তার পক্ষে প্রাথমিক ফলাফলের হিসেবে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। ওই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে শেখ রহমান পেয়েছিলেন ৬ হাজার ১৮৮ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দী রবিন ম্যাককয় পেয়েছিলেন ৫ হাজার ১৬৬ ভোট।
১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য ও উন্নত জীবনের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শেখ রহমান। সেখানে জর্জিয়া বিদ্যালয় থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জনের পর ধীরে ধীরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ২০১৮ সালে প্রথমবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম এবং প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা। এরপর থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে পরাজিত করে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।
শেখ রহমানের পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বাবা মরহুম নজিবুর রহমান ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আগরতলায় ‘জয় বাংলা যুব শিবির’-এর ক্যাম্প সুপারভাইজার হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের শিকড় বজায় রেখেই তিনি আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে এমন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনকে অত্যন্ত গৌরবের হিসেবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তার এই পুনর্নির্বাচনের খবর নিজ জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এলাকার মানুষ তাকে দেশের গর্বিত সন্তান হিসেবে অভিহিত করছেন। তার ভাতিজা শেখ রাফিদ রহমান জানান, মার্কিন রাজনীতিতে একজন সংখ্যালঘু বাংলাদেশি ও মুসলিম হিসেবে এই অবস্থান তৈরি করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সেই বাধা পেরিয়ে তার এই সাফল্য শুধু পরিবারের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে এবং ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় দায়িত্বে দেশের সুনাম বাড়াবেন বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।