২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা বাবদ কেটে নেওয়া ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে সৌদি আরব। রবিবার সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ৩০০ হজযাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত এই অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছিল, যা এখন সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩০০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ মোট ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা সৌদি কর্তৃপক্ষ কর্তন করেছিল।
- ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ রবিবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
- ফেরত পাওয়া এই অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সৌদি কর্তৃপক্ষের কেটে নেওয়া ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। রবিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জানান, সৌদি সরকার তাদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয়ের এই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিয়েছে। মূলত ৩০০ জন হজযাত্রীর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কর্তন করা হয়েছিল, যা এখন সরকারিভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ কেটে নেওয়া হয়। তবে ইন্স্যুরেন্সের আওতাভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত এই অর্থ কর্তনের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ কূটনৈতিক তৎপরতার পর সৌদি সরকার এই অর্থ ফেরত দিতে সম্মত হয়, যা বাংলাদেশি হজযাত্রীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধর্মমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে আরও জানান, সৌদি আরব থেকে ফেরত পাওয়া এই অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই টাকা প্রকৃত পাওনাদারদের হাতে পৌঁছায়। এই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক হজ ব্যবস্থাপনার সুসম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের আর্থিক হয়রানি কমাতে এবং হজ প্যাকেজের খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী হজ মৌসুমগুলোতেও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন জটিলতাগুলো দ্রুত নিরসন করা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।