৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রবেশ ভিসা ইস্যু চার মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এলএ-বি২ ভিসার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ও প্রতারণা রোধে লাওস এই পদক্ষেপ নিলেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্মীদের আর্থিক লেনদেন ও পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাসের জন্য বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রবেশ ভিসা (এলএ-বি২) ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে লাওস সরকার।
- অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে প্রতিটি ঘটনায় শ্রমিক প্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্ধারিত এই সময়ে লাওসে গমনেচ্ছু কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের শ্রমবাজার সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত নয়ই সেপ্টেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই স্থগিতাদেশ আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট চার মাস কার্যকর থাকবে। এই সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা 'এলএ-বি২' ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে লাওস সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গত ২৮শে সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। লাওস সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও, 'দ্য লাওসিয়ান টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, এবং শ্রমিক আনার পর নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লাওসের কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলোতে কাজের পরিমাণ কমে যাওয়াও এই স্থগিতাদেশের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রায়ই প্রতারণার শিকার হন। তাই সরকার কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। লাওসে বাংলাদেশের সরাসরি দূতাবাস না থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে এবং শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জন্য আর্থিক জরিমানা, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
লাওসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিক প্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের ভুয়া ভিসা ও অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত এই চার মাস পর দেশটির শ্রমবাজারের গতিপ্রকৃতি কী হবে, তা জানতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার বিবিসি বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।