বায়ুদূষণে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান আজও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে দূষণমাত্রার এই বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। শীতকালীন মৌসুমে বায়ুদূষণের এই উচ্চমাত্রা নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার বর্তমান অবস্থান পঞ্চম।
- বায়ুদূষণের এই তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও জনবহুল শহর লাহোর।
- শীতকালীন সময়ে ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকারক পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ এর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
প্রতিদিনের বায়ুর মান নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী বায়ুদূষণে বিশ্বের পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের উপাত্তে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে শীতকাল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এবং শুষ্ক আবহাওয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকার বায়ুর গুণমান দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা নগরবাসীকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলছে।
আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক দূষণ সূচকে দেখা গেছে, এ দিন বায়ুদূষণে শীর্ষস্থান দখল করেছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার এই বড় শহরগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালির কারণে বায়ুর মানের চরম অবনতি ঘটে চলেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে জনজীবন ও পরিবেশের ওপর।
পরিবেশবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বাতাসে বর্তমানে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫ এর মাত্রা গ্রহণযোগ্য সীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। এর ফলে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরা এ সময়ে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
বায়ুদূষণের এই দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব কেবল মানবদেহের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য খাতের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নির্মাণাধীন স্থানগুলোতে পানি ছিটানোর মতো কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়মিত বাস্তবায়ন না করলে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে না।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।