বেসরকারি চাকরির ‘নতুন বিধিমালা’: সুরক্ষা দেবে না সুযোগ কমাবে?
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"দেশের ব্যাংক, আইটি ও এনজিওসহ বেসরকারি খাতের বেতনভুক্ত কর্মীদের আইনি সুরক্ষায় নতুন চাকরি বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে লিখিত নিয়োগপত্র ও ১২০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো সুবিধা রাখা হলেও বিধিমালাটি বাধ্যতামূলক না হওয়া, ওভারটাইম মজুরির অনুপস্থিতি এবং পিতৃত্বকালীন ছুটি বাদ পড়ায় এটি প্রকৃত সুরক্ষা নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- খসড়া নীতিমালায় লিখিত নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, ১২০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং শাস্তির আগে শুনানির বিধান রাখা হলেও এটি কেবল ঐচ্ছিক নির্দেশিকা হিসেবে রাখা হয়েছে।
- শ্রম আইনের ২(৬৫) ধারার বাইরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত কাজের দ্বিগুণ মজুরি নেই এবং উৎসব বোনাস ‘সর্বোচ্চ এক মাস’ নির্ধারণ করে আর্থিক সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- আইএলও কনভেনশন ও ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে মোট বেতনের ৫০-৬০ শতাংশ মূল বেতন, ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি ও ১০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার প্রজ্ঞাপন আকারে বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের ব্যাংক-বিমা, আইটি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, বাণিজ্যিক ও সেবা খাতের লাখো বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইনি সুরক্ষায় বেসরকারি চাকরির একটি নতুন খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত শ্রম আইনের ২(৬৫) ধারার ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞার বাইরে থাকা এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠীর জন্য উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খসড়ায় লিখিত নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, কর্মস্থলে বৈষম্যবিরোধী বিধান, শাস্তির আগে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাঠামো এবং ১২০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, খসড়াটির বড় দুর্বলতা হলো এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইন নয়, বরং একটি মডেল নির্দেশিকামাত্র। ফলে এটি না মানলে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনি দায় বা জবাবদিহির সুযোগ থাকছে না। এছাড়া পোশাক বা শিল্প কারখানার শ্রমিকরা অতিরিক্ত সময়ে কাজের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ওভারটাইম মজুরি পেলেও বেসরকারি খাতের খসড়ায় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। একইভাবে পিতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মঘণ্টার পর ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ বা ডিজিটাল নজরদারির সীমা নিয়ে খসড়াটি পুরোপুরি নীরব। বোনাসের ক্ষেত্রেও সুরক্ষার নামে ‘সর্বোচ্চ এক মাস’ নির্ধারণ করায় এটি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা সীমিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।
কর্মীদের প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে খসড়াটিকে অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন আকারে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম মান হিসেবে জারির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে মোট বেতনের অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মূল বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে গ্র্যাচুইটি ও ভবিষ্য তহবিলের সুবিধা ফাঁপা না হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়, মুনাফায় ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ), চাকরি অবসানের ৩০ দিনের মধ্যে সব পাওনা নিষ্পত্তি এবং অন্তত ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১০০ জনের বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ডে-কেয়ার সেন্টার ও স্বাস্থ্যবিমা বাধ্যতামূলক করার তাগিদ রয়েছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ নম্বর কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে এবং ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। ফলে ইউরোপীয় বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ শ্রমমান উন্নয়ন এখন অপরিহার্য শর্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল মালিকপক্ষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর না করে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রতিকার কাঠামো তৈরি করলেই বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানে প্রকৃত ভারসাম্য ও স্থায়িত্ব আসবে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার prothomalo.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।