ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম। সংগঠনটি জানায়, এই সিদ্ধান্ত ১৮ জেলার যোগাযোগব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি প্রকল্পে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে জনসম্মুখে প্রকাশের জোর দাবি জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের হঠাৎ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং এর নেপথ্যের সুনির্দিষ্ট কারণ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম।
- সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকাসহ এই মহাসড়ক ব্যবহারকারী দেশের ১৮ জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
- প্রকল্পে যদি কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা পরিকল্পনাগত ত্রুটি থেকে থাকে, তবে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণসমূহ অবিলম্বে জনসম্মুখে প্রকাশের জোরালো দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজীপুরসহ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী দেশের ১৮ জেলার মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে ফোরামের নেতারা উল্লেখ করেন, কেন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এর পেছনে কী ধরনের যুক্তি বা কোনো গোষ্ঠীগত স্বার্থ জড়িত রয়েছে কিনা, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। যদি প্রকল্পটিতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি কিংবা সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তদন্তের ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। তবে কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প পথ না ভেবে হঠাৎ প্রকল্প বাতিল এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নেতারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ইতিমধ্যেই নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে কোনো নির্মাণকাজ শুরু করা হলে সংশ্লিষ্ট ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত এসব অবকাঠামোর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই না করেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর ধরে গাজীপুরবাসীর এই প্রকল্পের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
পরিশেষে, সরকারের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ, আর্থিক দায় ও যোগাযোগ খাতের সুফল বিবেচনা করে বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ফোরামটি। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সাশ্রয়ী ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার স্বার্থে একটি স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন ভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।