গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে উত্তেজনার মধ্যে মুখ খুলেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসায় তার যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কেবল ন্যায়বিচার চাওয়া, মব সৃষ্টি বা ১৭ লাখ টাকা লুট নয়। এদিকে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং দুই পক্ষই থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের টঙ্গীর একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।
- মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।
- টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া পৈশাচিক ঘটনার বিচার পেতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা মব তৈরির পরিকল্পনা তার ছিল না। তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ক্যাশ বাক্স থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে ওই অভিভাবক জানান, তিন দিন আগেই বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সহযোগিতা বা সান্ত্বনা পাওয়া যায়নি, যা তাকে চরমভাবে হতাশ করে। কাচ ভাঙার যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তেজনা পরিস্থিতিতে অজান্তেই একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল, যার ক্ষতিপূরণ দিতে তিনি প্রস্তুত। এছাড়া ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উল্টো ওই অভিভাবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে, অন্যদিকে পাল্টা পাল্টি অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে। সচেতন মহল ও অভিভাবকরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও অন্যান্য অভিযোগের সঠিক সুরাহা না হলে এলাকার শিক্ষা পরিবেশ ও সামাজিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।